
আমি আগে তার জন্য অপেক্ষা করতাম।
প্রতি সন্ধ্যায় আমি বিছানার কিনারায় বসে থাকতাম, হাতে ফোন নিয়ে চ্যাট রিফ্রেশ করতাম যদিও জানতাম সে টেক্সট করবে না। দরজা খোলার সময় তাকে যে নরম হাসি দেব তার রিহার্সাল করতাম। অনুশীলন করতাম কীভাবে জিজ্ঞাসা করব “তোমার দিন কেমন কাটল?” যেন উত্তরটা এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
আজ রাতে আমি অপেক্ষা করিনি।
আমি লম্বা গোসল করলাম, চুল ধীরে ধীরে ধুয়ে তার পুরনো ওভারসাইজড শার্ট পরলাম যেটা একসময় তার ছিল। একজনের জন্য চা বানালাম। বারান্দায় বসে সামনের দরজার বদলে শহরের আলো দেখলাম।
যখন সে অবশেষে ১১:৪৭-এ বাড়ি ফিরল, সে আলো ইতিমধ্যে নিভে থাকায় অবাকও হল না। শুধু টেবিলে চাবি ফেলে সোজা বাথরুমে চলে গেল। একই রুটিন। একই নীরবতা।
আমি বাইরে রইলাম।
জল পড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। শুনতে পেলাম সে বেডরুমে ঘোরাফেরা করছে। শুনতে পেলাম বিছানায় ওঠার নরম শব্দ, আমার নাম না বলে।
আর তিন বছর পর প্রথমবারের মতো ভিতরে গিয়ে নীরবতা ভরাট করার তাগিদ অনুভব করলাম না।
শুধু বসে রইলাম, হাতের মাঝে উষ্ণ কাপ ধরে, নিজেকে ফিসফিস করে বললাম:
“আমি এমন কারও জন্য অপেক্ষা করা শেষ করলাম যে অনেক আগেই আমাকে খুঁজে দেখা বন্ধ করে দিয়েছে।”
আগামীকাল কী হবে জানি না।
সে জেগে উঠলে আমি এখনও এখানে থাকব কি না জানি না।
কিন্তু আজ রাত… আজ রাতে আমি অবশেষে অপেক্ষা করা বন্ধ করলাম।




